ডিসেম্বরে দৈনিক ১.৩৭ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়াবে ওপেক প্লাস

বিশ্ববাজারে সরবরাহ উদ্বৃত্তের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির গতি কমিয়ে আনছে ওপেক প্লাস।

বিশ্ববাজারে সরবরাহ উদ্বৃত্তের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির গতি কমিয়ে আনছে ওপেক প্লাস। সর্বশেষ ভার্চুয়াল বৈঠকে ডিসেম্বরের জন্য দৈনিক ১ লাখ ৩৭ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অনুমোদন করতে পারে সংগঠনটি। সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাত দিয়ে গতকাল বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রের দেয়া তথ্যমতে, সৌদি আরব, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, কুয়েত, ওমান, কাজাখস্তান ও আলজেরিয়া—এ আট সদস্য দেশ এরই মধ্যে উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সম্মত হয়েছে।

এপ্রিল থেকে ওপেক প্লাস দৈনিক মোট ২৭ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়িয়েছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় অক্টোবর ও নভেম্বরে উত্তোলন বাড়ার হার কমানো হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার জ্বালানি তেল কোম্পানি রসনেফট ও লুকওয়েল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মস্কোর উত্তোলন বাড়ানোর সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে। এটি ওপেক প্লাসের আলোচনায় নতুন জটিলতা তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক ও রাশিয়াসহ সহযোগী দেশগুলো নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাস। এর আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে সংগঠনটি কয়েক বছর ধরে উত্তোলন হ্রাসের পথে ছিল। চলতি বছরের মার্চে সে উত্তোলন হ্রাসের পরিমাণ দাঁড়ায় দৈনিক ৫৮ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে।

ওপেক প্লাস ধীরে ধীরে স্বেচ্ছায় উত্তোলন হ্রাসের নীতি তুলে নিচ্ছে। তবে পুরো সংগঠনের যৌথ উত্তোলন হ্রাসের সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে ২২ সদস্যবিশিষ্ট ওপেক প্লাস বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় অর্ধেক উত্তোলন করে। জোটটির এ অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে গত ২০ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছিল। তবে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক ইঙ্গিতের কারণে তা আবার বেড়ে ব্যারেলে ৬৫ ডলারে উন্নীত হয়।

গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষ দিন শুক্রবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা বেড়ে যায়। ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার খবর এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেন। সে সময় পণ্যটির দাম আবার কমে আসে।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম শুক্রবার দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৬৫ ডলার ৭ সেন্টে, যা এর আগের দিনের তুলনায় ব্যারেলে ৭ সেন্ট বা দশমিক ১১ শতাংশ বেশি। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার ৯৮ সেন্ট স্থির হয়। এটি আগের দিনের তুলনায় ব্যারেলে ৪১ সেন্ট বা দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি।

আরও